মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান সব প্রকল্প ও কর্মসূচির ব্যয় অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউএসএআইডির বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক রিচার্ড বি অ্যারন স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠনগুলোর উদ্দেশে এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত চুক্তির আওতাধীন সব প্রকল্প ও কর্মসূচির মার্কিন অংশের ব্যয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক নির্বাহী আদেশের আলোকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ইউএসএআইডির অধিগ্রহণ ও সহায়তা বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক ব্রায়ান অ্যারনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অংশীদারদের প্রকল্প বাস্তবায়ন অবিলম্বে বন্ধ, থামানো বা স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যয় সংকোচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ:
বিগত ৫০ বছরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ও মানবিক সহায়তা প্রদানেও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে বাংলাদেশে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ হতে পারে। তবে ইসরাইল ও মিসরের জন্য মার্কো রুবিওর সুপারিশক্রমে সামরিক সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব এবং মিসরের ১৯৭৯ সালের শান্তিচুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এসব সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
নির্দেশনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত এইচআইভি/এইডস কর্মসূচি (পিইপিএফএআর) অন্তত কয়েক মাসের জন্য বন্ধ থাকবে। ২০০৩ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী লক্ষাধিক মানুষের জীবন রক্ষা করেছে, যা বাংলাদেশেও চালু ছিল।
ওয়াশিংটন বৈদেশিক সাহায্যকে কৌশলগত পররাষ্ট্র নীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৬৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক সাহায্য প্রদান করেছে। তবে নতুন নির্দেশনার ফলে দারিদ্র্য মোকাবিলায় মার্কিন অবস্থানের পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংস্থা।